মোসলেম মোহাম্মদ
৮ জুলাই ২০২৫, ৮:৪১ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১৭৩ জন

আওয়ামী লীগে ১৬ বছর, এখন বিএনপির দায়িত্বশীল পদে: আব্বাস কমান্ডারকে ঘিরে বিতর্ক

 

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আব্বাস উদ্দিন কমান্ডার—যিনি অতীতে প্রকাশ্য জনসভায় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অনেকেই এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ।

জানা গেছে, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনি উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। সেই শূন্য পদে নিয়োগ পেয়েছেন আব্বাস উদ্দিন, যিনি সম্পর্কে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার আপন বোনজামাই। দীর্ঘ ১৬ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র বলছে, আব্বাস উদ্দিন বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষে কাজ করেছেন। এমনকি সর্বশেষ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী তাজুল ইসলামের পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন। এ সম্পর্কিত ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আব্বাস কমান্ডার মেঘনা উপজেলার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডারবাজি ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তার ছেলে আব্দুল কাদের মাদক নিয়ন্ত্রণে জড়িত বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাদের। তিনি দাবি করেন, “আমি শুধু ঠিকাদারি কাজ করি। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।”

বিএনপি নেতাদের একাংশ মনে করছেন, অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার প্রভাবেই আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারকে পদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা অভিযোগ করেন, সেলিম ভূঁইয়া তার পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়ে দলীয় কাঠামো নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আব্বাস উদ্দিন বলেন, “আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। একটি মহল আমাকে ও অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়াকে হেয় করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। নৌকার সঙ্গে ছবি থাকলেই কেউ আওয়ামী লীগ হয়ে যায় না।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান জানান, “দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে বলেছেন, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের কাছে তথ্য এলে আমরা তা হাইকমান্ডে পাঠাবো।”

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

বিএনপির ভেতরে এসব বিতর্ক ইতিমধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দলে অনুপ্রবেশ ও সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রানা সোহেল ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হলেন মোহাম্মদ হোসেন

ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন ছাত্রদলের সাদ্দাম হোসেন

বিএসইসি চেয়ারম্যানের আপত্তির পরও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বাস্তবায়নে জোর, অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন বিনিয়োগকারীরা

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু সংসদে

বিচার বিভাগের বরাদ্দের তুলনায় বিটিভির বাজেট বেশি, প্রশ্ন তুললেন শিশির মনির

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান

মশা দমন শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ডোবার পাশে বসার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

একই দিনে না ফেরার দেশে দুই সাবেক সংসদ সদস্য

১০০ কোটি টাকায় এনসিপি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়েছে: রাশেদ খাঁন

১০

১১ নারীকে ধর্ষণ-হ’ত্যার দায় স্বীকার, তবু কার্যকর হয়নি রসু খাঁর ফাঁসি

১১

দেশের নানা অপকর্মে জামায়াত জড়িত বলে দাবি দুদুর

১২

মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী

১৩

৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

১৫

বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ নতুন পাঁচ উপজেলা অনুমোদন

১৬

আদালতে ইউনূস-আসিফসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

১৭

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কালবৈশাখীর আশঙ্কা

১৮

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয়নি: আখতার হোসেন

১৯

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করছে জামায়াত

২০