বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত Asia Zero Emission Community Plus Summit-এ ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি দ্রুত, ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রাখে। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার অনুরোধ জানান।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি দেশগুলোর পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। কোনো দেশ এককভাবে এ সংকট মোকাবিলা করতে পারবে না বলে তিনি মনে করেন। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি জোর দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি সমন্বয়, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস ব্যবহারের উদ্যোগ, জ্বালানি রেশনিং এবং খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। পাশাপাশি মজুতদারি ও অযৌক্তিক কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান সংকটের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও গুরুতর হতে পারে, যা ১৯৮০-এর দশকে বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, এই সংকট শুধু বাংলাদেশের নয়; তাই এর সমাধানও এককভাবে সম্ভব নয়। বিশেষ করে স্বল্পোন্নত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর সুরক্ষায় একটি সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ জরুরি।
সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-কে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ ভবন থেকে ভার্চুয়ালি সম্মেলনে যোগ দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন