MD SABER HOSSAIN
২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ৪:১৭ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ১০৯ জন

শেষ হচ্ছে অপেক্ষা; আগামীকাল দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

দীর্ঘ প্রবাসজীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বহু বছরের রাজনৈতিক দমন–পীড়ন, ব্যক্তিগত কষ্ট ও পারিবারিক বেদনা পেছনে ফেলে তার এই প্রত্যাবর্তনকে দলটির নেতাকর্মীরা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

২০০৮ সালে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান তারেক রহমান। সে সময় রিমান্ডে নির্যাতনের কারণে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের পর দীর্ঘ সময় দেশের মাটিতে ফেরার সুযোগ হয়নি তার। সেবার মুক্তি পাওয়ার পর খালেদা জিয়া হাসপাতালে গিয়ে শেষবারের মতো ছেলেকে দেখেছিলেন—এমন স্মৃতিও উঠে আসে নেতাকর্মীদের কথায়।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে ওঠে শৈশব থেকেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ তার পারিবারিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পিতা জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনে থাকাকালে মা খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকেও কারাবন্দী হতে হয়। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতির পুত্র হয়েও রাজনৈতিক পরিবেশেই বেড়ে ওঠেন তিনি।

ছাত্রজীবনে বিশ্ব রাজনীতি, দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তা নিয়ে পড়াশোনা করেন তারেক রহমান। সক্রেটিস থেকে শুরু করে রুশো, ভলতেয়ার ও কার্ল মার্কসের চিন্তাধারা তার রাজনৈতিক মানস গঠনে ভূমিকা রাখে বলে দলের নেতারা দাবি করেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তাকেও একাধিকবার গৃহবন্দী থাকতে হয়।

১৯৮৮ সালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হিসেবে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে প্রচারণায় অংশ নেন। ২০০১ সালের পর তৃণমূল পর্যায়ে সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের উদ্যোগ নেন তিনি। ২০০৫ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সারাদেশে সংগঠন বিস্তারে ভূমিকা রাখেন।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় গ্রেপ্তার ও অসুস্থতার পর তাকে দেশ ছাড়তে হয়। ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর প্রবাসে থেকেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করেন নেতাকর্মীরা।

দলের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ও আন্দোলনে সংগঠনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানান তিনি।

সব জল্পনা–কল্পনার অবসান ঘটিয়ে তার দেশে ফেরাকে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে, এটি জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ক্যান্টনমেন্ট থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রানা সোহেল ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির যুগ্ম সম্পাদক হলেন মোহাম্মদ হোসেন

ক্যান্টনমেন্ট থানা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হলেন ছাত্রদলের সাদ্দাম হোসেন

বিএসইসি চেয়ারম্যানের আপত্তির পরও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা বাস্তবায়নে জোর, অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন বিনিয়োগকারীরা

নতুন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন শুরু সংসদে

বিচার বিভাগের বরাদ্দের তুলনায় বিটিভির বাজেট বেশি, প্রশ্ন তুললেন শিশির মনির

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ড. খলিলুর রহমান

মশা দমন শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে নয়, ডোবার পাশে বসার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

একই দিনে না ফেরার দেশে দুই সাবেক সংসদ সদস্য

১০০ কোটি টাকায় এনসিপি জামায়াতের কাছে বিক্রি হয়েছে: রাশেদ খাঁন

১০

১১ নারীকে ধর্ষণ-হ’ত্যার দায় স্বীকার, তবু কার্যকর হয়নি রসু খাঁর ফাঁসি

১১

দেশের নানা অপকর্মে জামায়াত জড়িত বলে দাবি দুদুর

১২

মালয়েশিয়ায় মির্জা আব্বাসকে দেখতে হাসপাতালে সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী

১৩

৬ শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

১৪

দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সমালোচনার জবাব দিলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী

১৫

বগুড়া সিটি করপোরেশনসহ নতুন পাঁচ উপজেলা অনুমোদন

১৬

আদালতে ইউনূস-আসিফসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা আবেদন

১৭

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, কালবৈশাখীর আশঙ্কা

১৮

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হয়নি: আখতার হোসেন

১৯

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নির্বাচনে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করছে জামায়াত

২০