এশিয়া কাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের সামনে এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। হারের ধাক্কায় যেনো খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে লিটন দাসরা। সামান্য এদিক-ওদিক হলেই বিদায় নিশ্চিত। এমন অবস্থায় আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায়।
এই ম্যাচে শুধু জয়ই যথেষ্ট নয়, জয় পেতে হবে বড় ব্যবধানে। কারণ রানরেটের হিসাবটাই টাইগারদের জন্য বড় বাধা। আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কা আগেই দুই পয়েন্ট করে পেয়েছে। বাংলাদেশেরও সমান দুই পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে পিছিয়ে পড়েছে তারা। আফগানিস্তানের নেট রানরেট যেখানে +৪.৭০০, বাংলাদেশের সেখানে -০.৬৫০। শ্রীলঙ্কার রানরেটও অনেকটা এগিয়ে। ফলে আজকের ম্যাচে জয় পেতে হলেও বড় ব্যবধানে জেতা ছাড়া সুপার ফোরে যাওয়ার আশা পূরণ হবে না।
বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলো হংকংয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে। তবে সেই জয়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ব্যাটিং, বোলিং এমনকি ফিল্ডিংয়েও ব্যর্থ হয় লিটনবাহিনী। মাত্র ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় ব্যাটিং লাইনআপ। জাকের আলি ও শামীম হোসেন শেষ দিকে কিছুটা লড়াই করলেও লঙ্কানরা সহজেই জয় পায় এবং নেট রানরেট বাড়িয়ে নেয়।
অন্যদিকে আফগানিস্তান দারুণ ছন্দে আছে। ব্যাট হাতে আজমতউল্লাহ ওমরজাই দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি করে রেকর্ড গড়েছেন। ওপেনার সেদিকুল্লাহ ও অধিনায়ক নবীও আছেন দারুণ ফর্মে। বোলিং বিভাগে ফজলহক ফারুকি, রশিদ খান, ওমরজাই, গুলবদনি নাইবরা প্রতিপক্ষকে একের পর এক সমস্যায় ফেলছেন।
পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের পক্ষে নয়। দুই দলের টি২০ লড়াইয়ে আফগানিস্তান এগিয়ে আছে। মোট ১২ ম্যাচে আফগানরা জিতেছে ৭টিতে, বাংলাদেশ জিতেছে ৫টিতে। শেষবার গত বছর বিশ্বকাপে আফগানিস্তানের কাছে ৮ রানে হেরেছিলো টাইগাররা।
তবুও লিটন দাস মনে করছেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য “ডু অর ডাই” লড়াই। সমর্থকদের আশা—হতাশার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আজ ঘুরে দাঁড়াবে টাইগাররা। বড় জয় না এলে সুপার ফোরের স্বপ্ন ভেঙে যাবে, আর জয় পেলেও রানরেটের অঙ্ক না মেলালে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতেই হবে।
আজকের ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে শুধু বাংলাদেশ নয়, শ্রীলঙ্কাও। আফগানিস্তান জিতলে লঙ্কানদের সুপার ফোরে যাওয়ার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ যদি বড় জয় তুলে নেয়, তবে সমীকরণ বদলে যেতে পারে একেবারে শেষ মুহূর্তে।
বাংলাদেশ কি শেষ ভরসার ম্যাচে আফগানিস্তানের বাধা পেরোতে পারবে, নাকি সমর্থকদের হতাশাই বাড়াবে—সেই উত্তর মিলবে আজ রাতেই।
মন্তব্য করুন