সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আদেশকে অন্তর্বর্তী সরকারের ‘অন্তহীন জাতীয় প্রতারণা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাষ্ট্রপতিকে চাপ প্রয়োগ করে এই আদেশ জারি করানো হয়েছে, যা সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয়।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিরোধী দলের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতির এমন কোনো সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই যে তিনি এ ধরনের আদেশ জারি করবেন। তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম—আপনি কি এ ধরনের আদেশ জারি করতে পারেন? তিনি বলেছেন, আমি তো পারি না, আমাকে পারানো হচ্ছে।”
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই পরিস্থিতি অনেকটা রাজহংসকে জোর করে স্বর্ণের ডিম পাড়াতে বাধ্য করার মতো। তিনি মন্তব্য করেন, জোরপূর্বক আদায় করা সেই ডিম যেমন প্রকৃত স্বর্ণের নয়, তেমনি এই আদেশও বৈধ নয়।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৩ সালের পর থেকে রাষ্ট্রপতির এমন কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই যার মাধ্যমে তিনি এককভাবে এ ধরনের আদেশ জারি করতে পারেন। ফলে সংশ্লিষ্ট আদেশটি সাংবিধানিক ভিত্তিহীনভাবে জারি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপ আসলে একটি ‘প্রতারণার দলিল’, যার মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ সময় তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন বা বড় ধরনের সাংবিধানিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদই একমাত্র বৈধ ও সাংবিধানিক প্ল্যাটফর্ম। সংসদের বাইরে গিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কিত যেকোনো পরিবর্তন অবশ্যই সাংবিধানিক বিধান মেনেই করতে হবে। অন্যথায় তা আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন