সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন বিধিমালায় পূর্বের কোটা কাঠামো বাতিল করে সর্বমোট ৭ শতাংশ কোটা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ব্যবস্থায় নারীদের জন্য আলাদা কোনো কোটা আর থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
নতুন পদ ও কোটা কাঠামো
প্রথমবারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। নিয়োগে বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ বরাদ্দ থাকবে।
নতুন বিধিমালার অধীনে সরাসরি নিয়োগযোগ্য ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ হবে। বাকি ৭ শতাংশ কোটার মধ্যে—
মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫%
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য ১%
শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য ১% সংরক্ষিত থাকবে।
যদি কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না যায়, সেসব পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে।
পূর্বের বিধিমালার পরিবর্তন
এর আগে বিদ্যমান ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯’-এ নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ, পুরুষদের জন্য ২০ শতাংশ এবং পোষ্যদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগের বিধিমালা রহিত হিসেবে গণ্য হবে।
কার্যকারিতা
‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫’ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নতুন বিধি অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ উপজেলা ও প্রয়োজনে থানাভিত্তিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। সরাসরি নিয়োগের পাশাপাশি পদোন্নতির মাধ্যমেও শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে।
মন্তব্য করুন