রাশিয়া থেকে তেল কেনায় ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক চাপালো যুক্তরাষ্ট্র, নয়াদিল্লির তীব্র প্রতিবাদ
ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় দেশটির বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। ফলে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে মোট শুল্কহার দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে—যা চীনের তুলনায় ২০ শতাংশ এবং পাকিস্তানের তুলনায় ২১ শতাংশ বেশি।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক ঘোষণায় ট্রাম্প জানান, “ভারত সরাসরি কিংবা ঘুরপথে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ অর্থায়নে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে দিল্লি। সেই কারণেই এই শুল্ক আরোপ জরুরি হয়ে পড়েছে।”
একইদিন স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি, ভারতের সরকার রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনে চলেছে। তাই আমদানি করা ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে অত্যন্ত জরুরি।”
ভারতের তীব্র প্রতিবাদ: “অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য”
মার্কিন ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নয়াদিল্লি কড়া প্রতিক্রিয়া জানায়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, “আমাদের জ্বালানি আমদানি সম্পূর্ণরূপে বাজারের চাহিদা ও বাস্তবতার ওপর নির্ভরশীল। ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “অনেক দেশই জাতীয় স্বার্থে একই ধরনের আমদানি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কিন্তু শুধুমাত্র ভারতকে নিশানা করে এই ধরনের শুল্ক আরোপ দুঃখজনক, অন্যায্য এবং সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
বিশ্ব কূটনীতিতে নতুন চাপ
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত এমন এক সময়ে যখন ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ইউক্রেন যুদ্ধ, চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারকে কেন্দ্র করে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এনডিটিভি জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য করা অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধেও একই ধরনের শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে তার প্রশাসনের। অর্থাৎ, রাশিয়ার রাজস্ব প্রবাহ বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে চলতি মাসের ২১ দিনের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্য আমদানির ওপর বাড়তি এই চাপ বিশ্ববাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য করুন