ভারতের তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের নতুন শুল্ক, দিল্লির কড়া প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর ফলে দেশটির পণ্যের ওপর মোট শুল্কহার দাঁড়াল ৫০ শতাংশে। মার্কিন সিদ্ধান্তে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। এই শুল্ককে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
বুধবার (৬ আগস্ট) এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, “রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে শাস্তিস্বরূপ ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।” একদিন আগেই (৫ আগস্ট) এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হতে পারে—ঠিক সময়মতোই এল সেই ঘোষণা।
এর আগে গত ৩১ জুলাই এক নির্বাহী আদেশে বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাতে ভারতের পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। নতুন শুল্ক কার্যকর হবে আগামী ৭ আগস্ট থেকে।
এদিকে নতুন এই সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে জানায়, “সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া থেকে ভারতের জ্বালানি আমদানিকে লক্ষ্যবস্তু করছে যুক্তরাষ্ট্র। আমরা ইতোমধ্যেই আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি—ভারতের তেল আমদানি একটি বাজারভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং দেশের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষত তখন, যখন বিশ্বের অনেক দেশই তাদের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থে একই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা আবারও জোর দিয়ে বলছি—এই পদক্ষেপ অবিচারপূর্ণ, অযৌক্তিক এবং অযথা। ভারতের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটন-দিল্লির মধ্যে বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষত ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা, এবং এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারতের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
মন্তব্য করুন