
প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর বিষয়ে ডিজিহেলথের সিদ্ধান্তকে বৈষম্যমূলক আখ্যা, BACB-এর তীব্র প্রতিবাদ
প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষর প্রদানের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীন ডিজিহেলথ কর্তৃক জারিকৃত সাম্প্রতিক নির্দেশনাকে বৈষম্যমূলক, অবৈজ্ঞানিক ও বাস্তবতাবিবর্জিত আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট (BACB)।
আজ বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা জানান, গত ৫ ও ৭ জানুয়ারি জারিকৃত নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারায় শুধুমাত্র বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকদের প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে দেশের ডায়াগনস্টিক খাতে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে BACB নেতারা বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশে এবং আন্তর্জাতিকভাবে ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টসহ বিভিন্ন ল্যাবভিত্তিক বিশেষজ্ঞরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষর করে আসছেন। এটি একটি প্রতিষ্ঠিত, স্বীকৃত ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত পেশাগত চর্চা। অথচ নতুন এই নির্দেশনার মাধ্যমে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের কার্যত অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে, যা তাদের পেশাগত মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
তারা আরও বলেন, নির্দেশনাটি কার্যকর হলে দেশের হাজারো প্যাথলজি ল্যাব কার্যত অচল হয়ে পড়বে। রিপোর্ট ডেলিভারিতে মারাত্মক বিলম্ব ঘটবে, রোগ নির্ণয়ে অনিশ্চয়তা বাড়বে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসা ও জীবন ঝুঁকির ওপর। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ল্যাবগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিএমডিসি রেজিস্টার্ড চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্যসেবায় ভয়াবহ অচলাবস্থার সৃষ্টি হবে।
BACB নেতারা দাবি করেন, এই নির্দেশনা বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার স্বীকৃত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে অবিলম্বে নির্দেশনার ৫ নম্বর ধারা বাতিল অথবা সংশোধনের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে যোগ্যতা ও দক্ষতাভিত্তিক নীতি প্রণয়ন এবং নন-মেডিক্যাল ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের প্যাথলজি রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার রাখার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
এ সময় BACB সতর্ক করে জানায়, দাবি মানা না হলে দেশের ডায়াগনস্টিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য অপূরণীয় সংকটের মুখে পড়বে, যার দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে।
মন্তব্য করুন