✍️ মোসলেম মোহাম্মদ
২০২৪ সাল—বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সাহসী মোড়। দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে, তার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে তরুণ প্রজন্মের অদম্য সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধ। স্বাধীনতা শুধু একটি তারিখ বা উৎসবের নাম নয়—এটি একটি চেতনাবোধ, যা ২০২৪ সালে নতুন করে প্রাণ পেয়েছে বাংলার তরুণদের হাত ধরে।
তরুণ সমাজ সবসময়ই ছিল পরিবর্তনের অগ্রদূত। কিন্তু ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপটে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যপট। ডিজিটাল মিডিয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্লগ ও পথসভা—সব জায়গায় তারা গড়ে তুলেছে সাহসী এক স্বর, যেটা শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের কল্যাণে সত্যের পক্ষে।
এই বছর বিভিন্ন আন্দোলন, সমাজ পরিবর্তনের দাবি, এবং ভোটের রাজনীতিতে তরুণদের সরব উপস্থিতি নতুন এক ধারা তৈরি করেছে। তারা শুধু প্রতিবাদ করেনি, প্রস্তাবও দিয়েছে। শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দেয়নি, বরং মাঠে নেমে বাস্তবের পৃথিবীতে তার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
শুধু রাজনীতি নয়—সামাজিক উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবা, পরিবেশ আন্দোলন, নারী অধিকার ও প্রযুক্তিতে উদ্ভাবনী কাজেও তারা রেখেছে সাহসিকতার স্বাক্ষর। শিক্ষিত ও সচেতন একটি প্রজন্ম কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বলছে—এই দেশ আমাদের, এই ভবিষ্যৎ আমাদের, আমরা ভয় পাই না।
২০২৪ সালের স্বাধীনতা তাই আর কেবল ১৯৭১ সালের পুনরাবৃত্তি নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে বর্তমান প্রজন্মের নতুন দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস ও দেশের প্রতি ভালোবাসার পরিচায়ক।
তরুণদের এই সাহসিকতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা আমাদের শিখিয়ে দিয়েছে—স্বাধীনতা মানে শুধু শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, সত্যকে গ্রহণ করা, ন্যায়ের জন্য কণ্ঠে কণ্ঠ মিলানো।
এই নবজাগরণই দেখিয়েছে—দেশের ভবিষ্যৎ ভালো হাতে আছে। সাহসী তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে একটি আরও মানবিক, আধুনিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ।
শেষ কথা:
২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবস যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল, তরুণরাই জাতির প্রাণ। সাহসিকতা ও সত্যের পথে তাদের পদচারণা জাতিকে আবারও আশাবাদী করে তুলেছে।
মন্তব্য করুন