রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন, শপথ ও আদেশ নিয়ে। একাধিক রাজনৈতিক নেতা প্রশ্ন তুলেছেন—যে বিষয়গুলো অতীতে সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না, সেগুলো যখন বাস্তবায়ন হয়েছে, তখন জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংবিধান খোঁজা হচ্ছে কেন?
তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে গণঅভ্যুত্থান ঘটেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ হয়েছে, এমনকি নির্বাচন বা গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাও সংঘটিত হয়েছে—যেগুলোর সবকিছু সংবিধানে পূর্বনির্ধারিতভাবে উল্লেখ ছিল না। তারপরও রাজনৈতিক প্রয়োজনে ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
সমালোচকদের দাবি, যদি অতীতের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ সংবিধানের সরাসরি উল্লেখ ছাড়াই বাস্তবায়িত হতে পারে, তবে জুলাই সনদের ক্ষেত্রেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করা উচিত। তাদের প্রশ্ন—সংবিধান ব্যাখ্যার বিষয়টি কি নির্বাচিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে?
অন্যদিকে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন। তাই যেকোনো নতুন উদ্যোগ, আদেশ বা শপথের ক্ষেত্রে সাংবিধানিক ভিত্তি নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের মতে, অতীতের উদাহরণ থাকলেও তা ভবিষ্যতের জন্য বাধ্যতামূলক নজির হয়ে যায় না।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও জাতীয় সংলাপ প্রয়োজন, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি না থাকে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়।
মন্তব্য করুন