দলের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জেলা প্রশাসকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির অভিযোগ, আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ নয়—এমন তুচ্ছ ও অপ্রয়োজনীয় কারণ দেখিয়ে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই প্রতীয়মান হয়।
রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, তিন দিনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে গাইবান্ধা-১, কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, জামালপুর-৩, ঢাকা-২, কুমিল্লা-৩ ও কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গাইবান্ধা-১ আসনের প্রার্থী এমপিওভুক্ত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হওয়ায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক তাঁর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। তবে একই ধরনের পেশায় থাকা অন্যান্য জেলার প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ রাখা হয়েছে, যা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এছাড়া কুড়িগ্রাম-৩ ও যশোর-২ আসনে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগসংক্রান্ত নথি দাখিল না করার অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, কিছু ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল করেছেন। প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র দাখিলের পরও মনোনয়ন বাতিল করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত অব্যাহত থাকলে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কি না—তা নিয়ে দেশবাসীর মধ্যে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হবে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গুরুত্বহীন ও তুচ্ছ অজুহাতে যেন কোনো প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল না করা হয়।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন অযৌক্তিক কারণে বাতিল করা হয়েছে, সেগুলো পুনরায় বৈধ ঘোষণা করা উচিত।
মন্তব্য করুন