মোসলেম মোহাম্মদ
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১০:২৬ পূর্বাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ
পাঠক সংখ্যা ৯৩ জন

সাহাবীদের কবর ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা – কে এবং কিভাবে

 

ইসলামের প্রাথমিক যুগে কবর সাধারণভাবে মাটির সমতলেই করা হতো।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনেক কবরের ওপর গম্বুজ, মাজার  তৈরি হয় (বিশেষত উমাইয়া, আব্বাসীয় ও উসমানীয় আমলে)।

সুফি ধারায় এটি সম্মান প্রদর্শন হিসেবে গণ্য হয়।

অন্যদিকে, ওহাবি মতবাদ (মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব, ১৮শ শতক) এগুলোকে “বিদআত” ও “শিরক” বলে ঘোষণা করে।

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব এবং মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ১৭৪৪ সালে মিলে প্রথম সৌদি রাষ্ট্র গঠন করেন।

এই জোটের মূল আদর্শ ছিল তাওহীদ রক্ষা।

এর অংশ হিসেবে তাঁরা সাহাবিদের  অনেক মাজার ও গম্বুজ ধ্বংস শুরু করেন।

১৮০৫–১৮০৬ সালে প্রথম বড় ধ্বংসযজ্ঞ

১৮০৫ সালে তারা মদিনা দখল করে।

১৮০৬ সালে তারা জান্নাতুল বাকী ও জান্নাতুল মুআল্লার অনেক গম্বুজ ও চিহ্ন ভেঙে ফেলে।

কিন্তু ১৮১৮ সালে উসমানীয় সেনারা সৌদি রাষ্ট্রকে পরাজিত করে, ফলে ধ্বংসযজ্ঞ থেমে যায় এবং কিছু জায়গা পুনর্নির্মাণ হয়।

তাই, কবর ধ্বংসযজ্ঞের প্রথম সূচনা হয়েছিল ১৮০৬ সালে, প্রথম সৌদি রাষ্ট্রের আমলে, ইবনে সৌদের সেনাদের মাধ্যমে।

৩. দ্বিতীয় সৌদি রাষ্ট্র (১৮২৪–১৮৯১)

রিয়াদকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৌদি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

যদিও তারা ধর্মীয়ভাবে একই আদর্শে ছিল, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারেনি।

৪. আধুনিক সৌদি আরব প্রতিষ্ঠা (১৯০২–১৯৩২)

আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ (কিং আবদুল আজিজ) ১৯০২ সালে রিয়াদ দখল করে নতুন সৌদি রাষ্ট্র গঠন করেন।

ধীরে ধীরে পুরো হিজাজ (মক্কা–মদিনা অঞ্চল) দখলে নেন।

১৯২৫–১৯২৬ সালের দ্বিতীয় বড় ধ্বংসযজ্ঞ

১৯২৫ সালে মদিনা দখলের পর পুনরায় ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়।

১৯২৬ সালের দিকে জান্নাতুল বাকী ও জান্নাতুল মুআল্লা কবরস্থানের সব গম্বুজ, মাজার, এমনকি কিছু চিহ্নও পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া হয়।

এই ধ্বংসযজ্ঞই সবচেয়ে আলোচিত এবং স্থায়ী পরিবর্তন আনে।

তাই, বর্তমান সৌদি আরবে সাহাবি ও আহলে বাইতের কবরচিহ্ন মুছে ফেলার মূল দায়িত্ব ছিল কিং আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের শাসনামলে, ওহাবি আলেমদের নির্দেশনায়।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য: নতুন রাষ্ট্রের ধর্মীয় বৈধতা প্রতিষ্ঠা এবং “তাওহীদ রক্ষক” হিসেবে নিজেদের দেখানো।

প্রতিক্রিয়া

বিশ্ব মুসলিম সমাজে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল।

ভারত, ইরান, ইরাক, মিশরসহ বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়।

তবে সৌদি সরকার তাদের নীতি পরিবর্তন করেনি এবং আজও বাকী–মুআল্লার অবস্থা একই রকম।

সারসংক্ষেপ

প্রথম ধ্বংসযজ্ঞ (১৮০৬) – প্রথম সৌদি রাষ্ট্র, ইবনে সৌদ ও ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের অনুসারীরা শুরু করে।

দ্বিতীয় ধ্বংসযজ্ঞ (১৯২৫–২৬) – কিং আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের আমলে স্থায়ীভাবে কার্যকর হয়।

এর মূল চালিকা শক্তি ছিল ওহাবি মতবাদ, আর বাস্তবায়ন করে সৌদি শাসক পরিবার।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি: বিচার বিভাগ এখন পুরোপুরি স্বাধীন

একইদিনে গণভোটের সিদ্ধান্ত কারো কুপরামর্শে হয়েছে: মিয়া গোলাম পরওয়ার

গণভোটের জন্য ভোটকেন্দ্র বাড়ানোর প্রয়োজন নেই: ইসি সচিব

ইসলামী সমমনা আট দলের নির্বাচনি ঐক্য জোরদার, আসন নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি

মাদারীপুরে নিখোঁজ গৃহবধূ ইমা আক্তারের সন্ধান চায় পরিবার

বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সিলেটে এনসিপির দোয়া মাহফিল

আপনাদের নিয়েই উন্নত শরীয়তপুর গড়ে তুলব

ফাঁকা আসনে শরিক দলের প্রার্থী না থাকলে, আমাদের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে

নির্বাচন করতে চাইলে উপদেষ্টাদের এখনই পদত্যাগ করা উচিত: সাইফুল হক

যখন বুঝবো সব ঠিক আছে, তখন তারেক রহমান দেশে আসবেন: দুদু

১০

উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভা, খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় দোয়া

১১

খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা

১২

গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হবে: শিশির মনির

১৩

ধর্মীয় জ্ঞান না থাকলে শরীয়ত সম্পর্কিত ব্যাখ্যা বা মন্তব্যে না জড়ানোর আহ্বান ধর্ম উপদেষ্টার

১৪

জামায়াতে ইসলামীর চাঁদাবাজি–দুর্নীতি করার অভিজ্ঞতা নেই: ডা. শফিকুর

১৫

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা

১৬

বিএনপি প্রার্থী বুলেট দিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চান: জামায়াত আমির

১৭

বিশ্বে প্রথম এক ডোজের ডেঙ্গু টিকা অনুমোদন দিল ব্রাজিল

১৮

ঢাকা ও আশেপাশে আবারও মৃদু ভূমিকম্প, উৎপত্তি নরসিংদীর ঘোড়াশাল

১৯

সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত

২০