ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত স্থগিত করেন। এর ফলে ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে আর কোনো বাধা রইল না।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আজকের হাইকোর্টের রায় উল্টানোর নায়ক হলেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। বিকেলের ঘটনাটি ছিল একেবারেই টার্নিং পয়েন্ট।”
হাসনাত আরও লেখেন, হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকলে ১৫ দিনের জন্য আদালত বন্ধ হয়ে যেত এবং ডাকসু নির্বাচনও আর সম্ভব হতো না। কিন্তু সেই সংকটময় মুহূর্তে শিশির মনির হাতে লিখে দ্রুত চেম্বার আদালতে পিটিশন দাখিল করেন এবং শেষ মুহূর্তে যুক্তি উপস্থাপন করে স্থগিতাদেশ উল্টে দিতে সক্ষম হন। তার ভাষায়, “ডাকসু নির্বাচন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
এসময় তিনি ছাত্রদল প্রার্থীকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন রাখেন, “তুমি যদি সত্যিই সময়মতো ডাকসু নির্বাচন চাও, তবে খুশি হওয়ার কথা। উল্টো সমালোচনা করলে সেটাই আসল স্ববিরোধিতা।”
অন্যদিকে, ছাত্রদল সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম আবিদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সোমবার বিকেলে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রিটের পক্ষে যে আইনজীবীকে নিযুক্ত করেছে, তিনি হলেন শিশির মনির। এই প্রশাসন ছাত্রদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বসেছে, অথচ কোনো দলের প্রতিনিধি হওয়ার কথা নয়।”
তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা। একপক্ষের মতে, নির্বাচনের স্বার্থে শিশির মনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অন্যপক্ষ আবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলছে।
সবশেষে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “যে আইনজীবী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন নিশ্চিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে নিজের অদূরদর্শিতা প্রমাণ করা। কাজটাই আসল বিষয়—কোনো ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়।”
মন্তব্য করুন