‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠের দিন কক্সবাজার সফরে যাওয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শীর্ষ পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শোকজ নোটিশের জবাবে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দেওয়া ব্যাখ্যায় হাসনাত জানান, অনুষ্ঠানটি বর্জন করার সিদ্ধান্ত তিনি আগেই নিয়েছিলেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছিলেন।
হাসনাত তাঁর ব্যাখাপত্রে বলেন,
> “জুলাই অভ্যুত্থান একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা। কিন্তু ঘোষণাপত্র তৈরির সময় সেই মানুষদের মতামত যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি। শহিদ পরিবার ও আহতদের অনেকেই বাদ পড়েছেন।”
তিনি আরও লিখেন,
> “ঘোষণাপত্রে সংবিধান সংস্কারের দায়িত্ব ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার যে কথা বলা হয়েছে, তা আমাদের আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। আমরা বরাবরই গণপরিষদ নির্বাচন এবং নতুন সংবিধানের দাবিতে আন্দোলন করেছি।”
অনুষ্ঠানে না যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান,
> “৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জানতে পারি, অনেক আহত এবং আন্দোলনকারী ভাইবোনদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এটি কেবল রাজনৈতিক নয়, একটি নৈতিক ব্যর্থতা। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিই উপস্থিত না থাকার।”
নিজের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে হাসনাত দাবি করেন, তিনি দলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও আহ্বায়ককে ভ্রমণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন এবং সম্মতিও পেয়েছিলেন। এরপর একাধিক সহকর্মী ও তাঁদের পরিবার-সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজার সফরে যান।
তবে এই সফর নিয়ে পরে বিতর্ক তৈরি হয়। হাসনাত অভিযোগ করেন,
> “বিমানবন্দর থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন মিডিয়ায় মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের গুজব রটানো হয়েছে।”
তিনি বলেন,
> “গুজব ছড়ানো হয়েছে, আমরা মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠকে যাচ্ছি—যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারণ পিটার হাস তখন বাংলাদেশেই ছিলেন না।”
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শোকজের উত্তর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন