চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কালীরচর এলাকায় হঠাৎ ২৮৪টি মহিষের আবির্ভাবকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষগুলোর একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই এসব মহিষের প্রকৃত মালিকানা নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে নানা গুঞ্জন ছড়ালেও চূড়ান্ত সত্য উদঘাটনে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহিষগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। ভিডিও ভাইরালের পর নোয়াখালী, হাতিয়া এবং সন্দ্বীপের বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বহু মানুষ মহিষগুলো দেখতে এবং নিজের হারানো মহিষ শনাক্ত করতে আসেন। অনেকেই দাবি করছেন, মহিষগুলো তাদের হারিয়ে যাওয়া সম্পত্তির অংশ।
এদিকে উড়িরচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বিএনপি সভাপতি আবদুর রহিম এবং তার বোনের পরিবার মহিষগুলোর মালিকানা দাবি করেছেন। তারা জানান, উড়িরচরে চারণভূমি সংকটের কারণে মহিষগুলো সন্দ্বীপে আনা হয়েছে। মহিষগুলোর টিকা দেওয়ার কার্ড উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন আবদুর রহিমের ছেলে মো. আজিম।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মহিষগুলো পলাতক এক আওয়ামী লীগ নেতার হতে পারে। রাজনৈতিক কোন্দলের কারণেই মালিকানা নিয়ে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি যাচাই-বাছাই করতে ৯ জুলাই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলী আজম। তিনি জানান, একাধিক পক্ষ মহিষের মালিকানা দাবি করায় যাচাই প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়েছে, তবে যথাযথভাবে তদন্ত চলছে।
সন্দ্বীপ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা বলেন, “মহিষের প্রকৃত মালিক শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে সন্দ্বীপের এই ‘মহিষ রহস্যের’ জট খুলবে।
মন্তব্য করুন