রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার চাইলে এখনো গণভোটের গেজেট ও তারিখ সংশোধন করা সম্ভব। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের সিদ্ধান্ত ‘ভুল পরামর্শে’ নেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার দুপুরে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোট আয়োজনসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইসলামপন্থি আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ইসলামী চিন্তার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যাশা মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দাবি, আট দলের সাথে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল যোগ দেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে।
মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য
তিনি বলেন,
“আমরা পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছি।”
“দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এবার সংগ্রাম।”
“গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে জনমত তৈরি হয়েছে।”
“‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই ফ্যাসিবাদবিরোধী রাষ্ট্র, সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং এর জন্য সরকার দায়ী।
অন্যান্য নেতাদের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতের সংসদ হবে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত। তাঁর ভাষায়, “আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনা হবে কুরআনের বিধান অনুযায়ী।”
ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন্দ বলেন, সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায় এবং ইসলামী নেতৃত্বকে রাষ্ট্রীয় ভূমিকায় দেখতে আগ্রহী। তিনি বিক্ষোভ ও মিছিলে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, জনগণের কাছে বেশি করে যেতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহম্মেদ অভিযোগ করেন, একটি দল নানা সংস্কারকে বাধা দিয়ে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় আছে।
জাগপার সহ–সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, দেশের ইতিহাসে জাতীয় নির্বাচনের দিনে কখনো গণভোট হয়নি। তার মতে, একইদিনে দুটি আয়োজন করা চ্যালেঞ্জিং এবং নির্বাচন কমিশনও তা স্বীকার করেছে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হলেও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি।
নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল মাজেদ আতহারী বলেন, গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া জাতীয় নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তিনি ১৯৪৭ সাল থেকে ‘ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম’ চলমান বলে উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান বলেন, একদল গণভোটে ‘না’–এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, কিন্তু জনগণ ‘হ্যাঁ’–এর মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সমাবেশের সভাপতি জামায়াত নেতা রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, সরকার নিরপেক্ষ না থেকে একটি দলের স্বার্থে কাজ করছে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে গণভোট করতে হবে এবং গণহত্যার বিচারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
সমাবেশের পাঁচ দফা দাবি
১. জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও তার ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন
২. জাতীয় নির্বাচনে দুই কক্ষেই সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) ব্যবস্থা চালু
৩. সকল দলের জন্য সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা
৪. পূর্বের সরকারগুলোর কথিত জুলুম, নির্যাতন, দুর্নীতি ও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান করা
৫. ‘স্বৈরাচারের দোসর’ হিসেবে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা
সমাবেশে অংশ নেওয়া আট দল
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ
খেলাফত মজলিস
নেজামে ইসলাম পার্টি
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি
মুফতি ইমরান ও ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন। বিভিন্ন ইসলামী ও সমমনা দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এতে বক্তব্য দেন।
মন্তব্য করুন