বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিত করতে সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছে। রোববার রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে আইন মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগের কার্যকর ও আনুষ্ঠানিক বিচ্ছিন্নতা সম্পন্ন হলো।
এর আগে গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা অধ্যাদেশের খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। এই অনুমোদনের পরই অধ্যাদেশটি জারির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিতের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার অংশ
গত বছরের ২৭ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে সুপ্রিম কোর্ট একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেই প্রস্তাবে—
সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নকে সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়
হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ আদালত ও ট্রাইব্যুনালসমূহের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্য তুলে ধরা হয়
একটি স্বতন্ত্র সচিবালয়ের অর্গানোগ্রাম,
রুলস অব বিজনেস ও
অ্যালোকেশন অব বিজনেস–এ প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করা হয়
এই বিস্তৃত প্রস্তাবের আলোকে সরকার নতুন অধ্যাদেশ তৈরি করে এবং আজ তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি হলো।
অধ্যাদেশের প্রভাব
নতুন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার ফলে—
বিচার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আর আইন মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকবে না
বিচারিক ও প্রশাসনিক অবকাঠামো স্বাধীনভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে
অধস্তন আদালতগুলোর তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হবে
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঘোষিত এই পদক্ষেপকে দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন